ডি-৮ সম্মেলনে যোগ দিতে মিসরের উদ্দেশে মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে ঢাকা ছাড়েন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাকে বহনকারী বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে।
ডি-৮ সম্মেলনটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এ সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আজাদ মজুমদার জানিয়েছেন, "এই সম্মেলন দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।"
ডি-৮ সম্মেলনের ফাঁকে একাধিক দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাইডলাইন বৈঠকের কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্য সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে, গত ৩০ অক্টোবর বাংলাদেশে নিযুক্ত মিশরের রাষ্ট্রদূত ওমর ফাহমি ডি-৮ সম্মেলনে যোগ দিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে মিশরের রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসির পক্ষ থেকে আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন। রাষ্ট্রদূত জানান, ডি-৮ সম্মেলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাইডলাইন বৈঠকে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের সমর্থন নিয়ে আলোচনা হবে।
ডি-৮ গ্রুপটি ১৯৯৭ সালের ১৫ জুন ইস্তাম্বুল ঘোষণার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই গ্রুপের মূল উদ্দেশ্য: বিশ্ব অর্থনীতিতে সদস্য দেশগুলোর অবস্থান শক্তিশালী করা। বাণিজ্যের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা। আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন।
ডি-৮ এর সদস্য দেশগুলো হলো: বাংলাদেশ, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান এবং তুরস্ক। এবারের সম্মেলনে এসব দেশের সরকার প্রধানরাও উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
ডি-৮ সম্মেলনটি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
0 মন্তব্যসমূহ